সু-বৃদ্ধির পরিকল্পনা

প্রকৃতি সুরক্ষার পাশাপাশি পরিমিত যোগান দান এবং একই সাথে গ্রামীণ সম্প্রদায়ের জনগণের সুন্দরভাবে জীবনযাপনের পথ দেখানোর লক্ষ্যে অধিক শস্য উৎপাদনে আমরা ছয়টি প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছি।

যারা সারা বিশ্বের খাদ্য, জ্বালানি এবং শস্যের চাহিদা মেটাতে এবং আগামীতে খাদ্য উৎপাদনে নতুন যুগের সূচনা করতে কাজ করে যাচ্ছে, সেই কৃষকরা প্রাকৃতিক সম্পদের ঘাটতির কারণে যে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করতে যে চাপ নিয়ে থাকে, তা বহুলাংশে কমিয়ে আনতে এই নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা এক নতুন আগামীর পথ দেখাতে সাহায্য করবে। কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চাকা এবং আগামী কয়েক দশকেও  প্রায় ৪৭ শতাংশ জনগোষ্ঠী কৃষিকাজে জড়িত থাকবে বলে আশা করা যায়। একই সাথে একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে যুগোপযুগী টেকসই উপায়ে সুষম খাবার সবার মুখে পৌঁছে দেওয়া। আর যেখানে ধারণা করা হয়, ২০৫০ সাল নাগাদ প্রায় ৫ কোটি মানুষ যুক্ত হতে পারে, যার ফলে কৃষকদের আরও দক্ষতার সাথে ফসলের চাষ করতে হবে, বিদ্যমান জমি সংরক্ষণ করতে হবে, জীববৈচিত্র্যের উন্নতি করতে হবে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বর্তমানে দুই হেক্টরের কম জমিধারী বিশাল সংখ্যক ক্ষুদ্র চাষীদের একীভূত করে অত্যাধুনিক পদ্ধতির সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে। বাংলাদেশে কৃষিশিল্প মূলত ক্ষুদ্র চাষীদের দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত। বর্তমানে ১২.৮ মিলিয়ন কৃষকের কাছে জনপ্রতি আড়াই হেক্টরের কম জমি রয়েছে, কিন্তু তারাই ৯০ শতাংশেরও বেশি জমিতে কৃষিকাজ করে থাকে। তাই ক্ষুদ্র চাষীরাই আসলে দেশের সামগ্রিক উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে বিশাল ভূমিকা রাখতে পারে। সুতরাং সু-বৃদ্ধির পরিকল্পনার সাথে জড়িত সকল চ্যালেঞ্জ-ই বাংলাদেশের ক্ষেত্রে খুবই প্রাসঙ্গিক।