বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন পার্টনারশীপ এবং অধিগ্রহণের মাঝেই সিনজেনটা ৫০ বছরেরও অধিক সময়ের সমৃদ্ধ ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে । সিনজেনটা এজি সুইজারল্যান্ডের বাসেল ভিত্তিক একটি কৃষি রসায়ন সংস্থা এবং বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় কৃষি সংস্থা। ২০০০ সালে নোভার্টিস এগ্রো বিজনেস এবং অ্যাস্ট্রা জেনেকা এগ্রোকেমিক্যালস এক হয়ে সিনজেনটা প্রতিষ্ঠিত হয়। সিনজেনটা বাংলাদেশ-এর ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যাবে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে সিবা-গেইগি বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম শুরু করে, যা ১৯৭০ সালে সিবা এবং গেইগি একীভূত হওয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় । পরবর্তীতে সিবা-গেইগি সানডোজের সাথে একীভূত হয়ে ১৯৯৬ সালে নোভার্টিস হিসাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এর ৪ বছর পর ২০০০ সালে নোভার্টিস এগ্রো বিজনেস এবং অ্যাস্ট্রা জেনেকা এগ্রোকেমিক্যালস আবার একীভূত হয়ে সিনজেনটা প্রতিষ্ঠা হয়।
বাংলাদেশের কৃষিপণ্য এবং কৃষি-সমস্যা সমাধানের কথা আসলেই সিনজেনটা বাংলাদেশ-এর নাম সবার আগে চলে আসে। এটি একটি যৌথ উদ্যোগের পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি, যেখানে ৬০ শতাংশ শেয়ার সিনজেনটা এজি সুইজারল্যান্ডের এবং ৪০ শতাংশ শেয়ার বিসিআইসি (বাংলাদেশ কেমিক্যাল শিল্প কর্পোরেশন) এর মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের। ঢাকার ধানমন্ডিতে সিনজেনটা বাংলাদেশ-এর প্রধান কার্যালয়। এছাড়াও সারাদেশে সিনজেনটা বাংলাদেশের তিনটি বিভাগীয় অফিস, এগারোটি আঞ্চলিক অফিস রয়েছে। সেইসাথে, চটগ্রামে একটি ফসল সুরক্ষা ফর্মুলেশন প্লান্ট, বগুড়ায় একটি বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ প্লান্ট এবং বগুড়া, যশোর, গাজীপুর চট্টগ্রামে চারটি সাইট অফিস রয়েছে। এছাড়াও বগুড়ায় একটি অত্যাধুনিক লার্নিং অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট সেন্টার রয়েছে, যেখানে সিনজেনটা-এর কর্মচারী, খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ী, কৃষক, পেশাদার স্প্রে ম্যান এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের প্রশিক্ষণ, কর্মশালা, সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর পর থেকে সিনজেনটা বাংলাদেশ ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার উর্ধ্বমুখী চাহিদা মেটাতে টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ করে চলেছে । আর বাংলাদেশের কৃষকদের শস্য উৎপাদনে সহায়তা করার জন্য সিনজেনটা বাংলাদেশ সবসময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ক্ষুদ্র চাষীদের ফসলের ফলন, উৎপাদন ও গুণগত মান বাড়ানোর জন্য উচ্চমানের বীজ, রোপণ প্রযুক্তি এবং ফসল রক্ষা বিষয়ক সমাধান আনার মাধ্যমে চাষীদের জন্য বিভিন্ন উপযোগী অফার প্রতিনিয়ত দিয়ে আসছে। এছাড়াও সিনজেনটা বাংলাদেশ কীটনাশকের নিরাপদ প্রয়োগের কথা বিবেচনায় রেখে বেশকিছু প্রশিক্ষণ কর্মশালা পরিচালনা করে থাকে।